
দ্বীনি চর্চা, আলেমদের কল্যাণ এবং ইমাম খতিবদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকারের সময়ে অভূতপূর্ব অগ্রগতি হয়েছে বলে মনে করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন গভর্নিং বোর্ডের সদস্য (গভর্নর) মুফতী বিএম শরিফুল্লাহ। ইমামদের সরকারি ভাতা, আলেমদের কর্মসংস্থান, মসজিদভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম, সরকারি বিভিন্ন কমিটিতে আলেমদের অংশগ্রহণ এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন ।
সম্প্রতি কেরানীগঞ্জ উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন কার্যালয় পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মুফতী বিএম শরিফুল্লাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা এবং সরকারের প্রশাসনিক সংস্কারের প্রভাব ধর্ম মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন পর্যায়ে দেখা যাচ্ছে। কেরানীগঞ্জের মডেল মসজিদ পরিদর্শনে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। এসব মডেল মসজিদ শুধু ইবাদতের স্থান নয়, এগুলো দ্বীনি শিক্ষা ও ইসলামিক সংস্কৃতির কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে উঠছে।
আলেমদের অধিকার আদায়ে সম্মিলিত ইমাম খতিব পরিষদের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর ঢাকার চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সংগঠনটির উদ্যোগে একটি সম্মেলন হয়। এতে কওমি মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন ধারার আলেমদের ব্যাপক অংশগ্রহণ ছিল। অনুষ্ঠানে সরকারের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিদের পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান, এনসিপির নাহিদ ইসলাম, নুরুল হক নূর, মজিবুর রহমান মঞ্জু, ববি হাজ্জাজ, আন্দালিব রহমান পার্থ, আল্লামা মহিবুল্লাহ বাবুনগরী, মাওলানা খলিল আহমদ কাসেমী, মাওলানা আবদুল হামিদ মধুপুর, মাওলানা সাজিদুর রহমান, মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুক, সৈয়দ রেজাউল করিম চরমোনাই ও মুফতি মামুনুল হকসহ দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের আলেমরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত সেখানে উপস্থিত থেকে বক্তব্য শোনেন ও দিকনির্দেশনা দেন। ওই সম্মেলনেই সম্মিলিত ইমাম খতিব পরিষদের সাত দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়।
সাত দফা দাবির বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে মুফতী বিএম শরিফুল্লাহর বক্তব্য, দাবিগুলোর ইতিবাচক বাস্তবায়নের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। সারা দেশের মসজিদের ইমামদের সরকারি ভাতা দেওয়ার কার্যক্রম চলছে। দাওরায়ে হাদিস সনদের ভিত্তিতে কাজী নিয়োগের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং জেলা ও উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটিতে কওমি মাদ্রাসার প্রতিনিধিত্ব রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্কুল-কলেজে ধর্মীয় শিক্ষক পদে কওমি সনদধারী আলেমদের নিয়োগের সুযোগ তৈরির কাজও এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে আলেমদের মূল্যায়ন ও তাঁদের কাজকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক পদে কওমি ঘরানার একজন বিজ্ঞ আলেমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং গভর্নিং বোর্ডে পাঁচজন আলেমকে গভর্নর হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। ইমাম-মুয়াজ্জিনদের আর্থিক ও সামাজিক মর্যাদা বাড়াতে ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্ট পুনর্গঠন ও পরিবর্ধন করা হয়েছে এবং প্রান্তিক পর্যায়ের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও দুস্থ আলেমদের জন্য সরকারি ভাতা ও সুদমুক্ত ঋণের পরিধি বাড়ানো হয়েছে। মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম বা মউশিক প্রকল্পকে আরও আধুনিক ও আলাদা ব্যবস্থাপনায় নেওয়ার কাজ চলছে। প্রকল্পের শিক্ষক ও কেয়ারটেকারদের নিয়মিত সম্মানী নিশ্চিত করা হয়েছে, বকেয়া সংক্রান্ত জটিলতা দূর করা হয়েছে এবং তাঁদের চাকরি ও ভাতা স্থায়ী করার প্রক্রিয়াও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ধরে রাখতে বিভিন্ন চিন্তাধারার আলেমদের নিয়ে মতবিনিময়, সংলাপ ও সেমিনারের আয়োজন করা হচ্ছে, যাতে ছোটখাটো ফিকহি মতপার্থক্য বিভেদের কারণ না হয়। সরকারি দপ্তরে যোগ্য আলেমদের গবেষণা, নৈতিক শিক্ষা, প্রশাসনিক পরামর্শ ও সমাজসেবামূলক কাজে যুক্ত করার ক্ষেত্রও তৈরি করা হচ্ছে এবং তাঁদের সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। হজ ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতি ও গাফিলতি বন্ধে মধ্যস্বত্বভোগী ও দালালচক্র দূর করে ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন ও সহজ আবাসন ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে হাজিরারা কম খরচে ভালো সেবা পান। আলেমদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নম্রতা, ভদ্রতা, শালীনতা ও আন্তরিকতাকে বিরল দৃষ্টান্ত উল্লেখ করে তাঁর দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করেন মুফতী বিএম শরিফুল্লাহ। একই সঙ্গে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাঠপর্যায়ের কার্যালয়ে আলেমদের হয়রানি বন্ধ, ফাইল আটকে রাখার সংস্কৃতি দূর করা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে ডিজিটাল ব্যবস্থা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
তার ঘনিষ্ঠজন মাওলানা আনিছুর রহমান জাফরী বলেন, মুফতী বিএম শরিফুল্লাহ স্যার একজন ইসলামী চিন্তাবিদ, ফকিহ ও সমাজ সংস্কারক। তিনি সম্মিলিত ইমাম খতিব পরিষদ বাংলাদেশের মহাসচিব এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের গভর্নিং বোর্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দ্বীনি শিক্ষা বিস্তার ও আলেম-ওলামাদের অধিকার আদায়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন।